স্বপ্নের
ব্যবচ্ছেদ
হীরাকে দেখেছ? মহামূল্যবান
হীরা নয়।
সর্বহারা মায়ের অন্ধের
যষ্টি।
পাঁচ বছরের বোন মায়ের
স্বপ্ন রচয়িতা।
প্রতিদিন এখানে জুতোর
রং দানি নিয়ে,
যে স্বপ্ন-বিশ্ব রং
রচনা করতো।
আট বছরের হীরাকে জীবন
তুলে দিয়েছে দেখো কত
যে দায়িত্ব।
সবচেয়ে বড় যে প্রয়োজন,
মায়ের ওষুধ কেনার এ
আয়োজন।
অনিদ্রা-অনাহারে চামড়া
লেপ্টে আছে হাড়ে,
তবু দায়িত্বের সুখে
বাধ্য হাসি ঠোটের ’পরে।
সাহেব সন্তানেরা পাশের
ইস্কলে কত পড়া পড়ে,
হীরার স্বপ্নকুড়ি অশ্রু
হয়ে ঝড়ে।
সামনে এসে দাড়ায় কেউ!
খুশিতে ডগমগ হীরা নতুন
স্বপ্ন দেখে!
আধাসের চাল আর আলুর-
খরচ জোগেছে অনেক আগেই,
আজ মায়ের জন্য ওষুধও
নেয়া যাবে।
না হলে মরণরোগে, মায়েরেই
নিয়ে যাবে।
জুতোর রঙ্গে স্বপ্নের
রং লেগে
হীরা হয় আনমনা!
লাল, নীল রঙ্গে গড়ছে-
স্বপ্নের আলপনা!
সাহেব বুঝি তার সন্তানকে-
ইস্কুল থেকে নিয়ে ফিরছে!
কল্পনায় হীরার মায়া,
যেন ইস্কুলে যাচ্ছে!
আর মাত্র এক বছর,
মায়া ইস্কুলে যাবে,
কত লাল-সবুজ বই যে পড়বে!
ইস্কুল ব্যাগ, পানির
ফ্লাষ্ক-
আর জামা-জুতা কিনতে
হবে।
চড় খেয়ে চমকে উঠে হীরা!
ক্ষোভে, রোষে সাহেব
চড় দিয়েই চলেছে,
হতচ্ছাড়া সাহেবের দামি-
প্যান্ট, মোজা নষ্ট
করেছে।
দু’হাত জোড় করে নম্র
আকুতি!
সাহেবের ক্রোধ কী শুনে
কোন মিনতি!
ক্রোধে রাস্তায় ছুঁড়ে
দিল যত রংদানি।
কে জানে এ যে জুতোর
রং নয়,
জীবনের চেয়েও দামি।
দৌড়ে তুলতে গেল স্বপ্নদানিদের,
জানতো কী মৃত্যুর ভালোবাসায়,
যাবেই সামনে ট্রাকের!
আসন্ন বিপদ দেখে সাহেব
পড়ল সটকে।
উড়ে গিয়ে হীরাদেহ ডাষ্টবিনে
আটকে।
এখানে যত ফেলে দেয়া
হয় উচ্ছিষ্ট!
এখানেই সমার্পিত হল
সমাজের দিব্য দৃষ্ট!
চোখ নিভে আসছে,
হীরা দেখে অসুস্থ মায়ের
মায়াময় মুখ!
হীরা দেখে বোনের চোখে
আশার অসুখ!
বাতাসে মিলিয়ে যায় হীরার
নীরব হাহাকার!
পার্থক্য পড়েনা বুদ্ধিজীবীর
বিদ্যার আড্ডার!
স্বপ্ন ব্যবচ্ছেদে পরিবর্তিত
হয়না-
সাহেবের জীবনাকার।
মনুষত্ব বিলীনতায় দৃষ্টি
পড়েনা সভ্যতার।।

No comments:
Post a Comment