নীলকাব্য
(জেবুন্নেসা সিমী)
ঝাপসা দৃষ্টি
স্মৃতির চিলেকৌঠায়
হাতড়ে বেড়ায়
তোমার ফেলে যাওয়া
আপন কষ্টদের।
সময়ের তারকাঁটায়
আটকে পড়া গোলাপি আঁচল
কষ্টের নীল নিশান ওড়ায়
পবনের জমিনে।
কালবৈশাখীর আঁধারে
দিকভ্রান্ত হয়ে এসে দাঁড়ালে যখন
আমি তখন চার প্রকোষ্ঠের ছিদ্রে
এঁটেল মাটির কারুকাজে ব্যস্ত।
ঘোলা চোখ তুলে তাকাতেই
অপরিচিত কবিতায়
শব্দের আকুলতা নিয়ে
খুঁজতে থাকো চেনা দৃষ্টি।
আমার কপালের বলিরেখা
দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়ে
জানান দেয় চেনার চেষ্টা
প্রিয় অতীত অবয়ব।
মাত্র দুই যুগ।
পরিপাটি হয়ে বসে আছে
কপালের উপর
তোমার অবাধ্য চুলগুলো,
ছেলেমানুষীর আদিখ্যেতা হারিয়ে
চেহারায় সাহেবী মুখোশ।
ইচ্ছের বাঁধভাঙ্গা খুশিতে
স্নায়ুরা বেপোরোয়া হয়ে ওঠে,
তোমায় স্পর্শের ইচ্ছেয়
অবাধ্য হাতেরা ছুটে যায়
তোমায় কুঁড়ে ঘরে ডাকতে।
কিন্তু খোঁড়া মন
উঠে দাঁড়াতে পারেনা,
শুধু কবিতা তাকিয়ে থাকে
শব্দহীন কঙ্কাল হয়ে।
শ্রাবন নেমে আসে
বসন্ত ভেজাতে,
দুই যুগের অভিমানী বাসন্তী
মুখ ঘুরিয়ে নেয়।
তুমি আবেগের করিডোর এড়িয়ে
পা রাখো গন্তব্যের গলিতে।
ছুঁয়ে দেখার তীব্র বাসনা নিয়ে
অস্থির দৃষ্টিতে পথ পাড়ি দেয়
ঘোলা চোখ।
কবিতা পেছনে ফেলে
শ্রাবণীর স্পর্শে উদ্বিগ্ন মনে
চলে যাও।
আমার বসন্ত চলে যায়।
রেখে যায় শ্রাবণ।
আমি শ্রাবণকে দু 'চোখে নিয়ে
সজীব করি নীলকাব্য।
No comments:
Post a Comment