Friday, September 22, 2017


শ্বাসরুদ্ধ জবান
জেবুন্নেসা সিমী

যে দিনটির;পাথরের চাপে
শ্বাসরুদ্ধ সময়,
সে দিনটি মানুষের নয়।
শ্বাসরুদ্ধ প্রাণ ক'দিন বেঁচে রয়!
যে নদী রক্তে টলটল,
সে নদী পৃথিবীর নয়।
মানুষের গ্রহে রক্তনদী কেমনে হয়?
রক্তের বন্যায় যখন মনিটর ঝাপসা,
অশ্রু মুছে দেয় কি-বোর্ডের সব অক্ষর।
অবশ হাতেরা 
পঙ্গু শরীরের সামনেই পড়ে রয়।
স্বজাতির হাহাকার বা স্বদেশীর,
আমি চিনি মানুষ।
সংখ্যালঘু বলো বা শরনার্থী,
আমি দেখি মানুষ।
মানবতার মৌলবাদীতায় 
যদি আমায় ফাঁসি দাও
তবু ভালোবাসি মানুষ। 
যে শিশুরা শহীদ হলো
তারা কি মানুষ ছিলো?
নাকি নিরীহ প্রাণে, মানুষ হবার 
যোগ্যতা তাদের ছিলোনা।
একটু আঘাতে, ফোঁটা রক্তের কষ্ট
সহ্য করতে পারিনা,
অথচ রক্তের হোলি চলছে 
মানুষের রক্তে!!
হ্যাঁ মানুষ!
আমি মানুষ দেখি নির্যাতিত প্রাণে।
প্রতিদিন এই রক্ত-ইতিহাসে
যতোটা হৃদয়ক্ষরণ হয়,
তার চেয়ে বরং আমাকে,
আমার সব রক্তকে
একেবারে মৃত্যু দাও;
যদি তাতে রক্তের চাহিদা ক্ষান্ত হয়।
স্রষ্টার সৃষ্টিকে যে তুমি ভালোবাসনা,
সে তুমি শান্তির ধর্ম শেখনি সুচী।
টাইয়ের নট নাড়ানো আন্তর্জাতিকতা
তোমায় কি শেখাবে?
একটি, দুটি হাজারটি শিশুর 
লাশের উপর দাঁড়িয়ে যে আন্তর্জাতিকতা,
সত্যের সংজ্ঞায় এখন তার শান্তি কমিটি 
মানবতা বিলীন করে।
আমার একটি মাত্র প্রাণ, নিঃশর্তে
বলি দিতে চাই,
যদি তাতে জাতিসংঘের
শান্তি কমিটি প্রাণ পায়।
সুচী'র মগেরমুল্লুকের
অশুচী দাপটের কাছে
বিশ্ব বিবেক যখন নুয়ে থাকে,
মাহাকালের গহীন গোঙানী
আর্তনাদে কাঁদে 
হায় মুসলিম হায় মুসলিম।
পুড়ে যাওয়া গ্রামের শিখায়
যে চোখে হাসে প্রেতনৃত্য
ঈশ্বর তিলাওয়াত করবেন 
মানুষ হননের শাস্তি কতো তিক্ত।


No comments:

Post a Comment